নবীজি ﷺ—যেমন ছিলেন তিনি’

৳ 250.00

প্রস্ফুটিত ফুলের মতো নিষ্পাপ এক কন্যা-শিশুর চিৎকারে কেঁপে ওঠে মরুভূমির প্রান্তর। কিন্তু কোনো এক মাতাল পিতার সে-দিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সে মরুভূমির পথ মাড়িয়ে কন্যা-শিশুটি কোলে নিয়ে হাঁটতে থাকে। নির্জন এক প্রান্তর তার গন্তব্য। ধারণা তার—এই মেয়ে তার জন্য এক অভিশাপ! তার বিশ্বাস—সে তার প্রভুদের আরাধনায় ভুল করে ফেলেছে। তার প্রভুরা তার প্রতি অসন্তুষ্ট। প্রভুদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি বলেই প্রভুরা তাকে কন্যা সন্তান দান করেছে। এখন এই কন্যা-শিশুকে জীবন্ত দাফন করে দিলেই ঘটবে তার পাপমুক্তি। সে ছুটে চলে তার পাপমুক্তির পথে…
গোত্রে গোত্রে লড়াই শুরু হয়ে গেছে। এই লড়াই সম্মান রক্ষার লড়াই, মর্যাদা ধরে রাখার লড়াই। শৌর্য-বীর্যে কোন গোত্র শ্রেষ্ঠ তা প্রমাণের জন্য যুদ্ধ দরকার। যুদ্ধই নির্ধারণ করে দেয় সামাজিক মর্যাদা।

”যুদ্ধ মানে—শত্রু-শত্রু খেলা
যুদ্ধ মানে—তোমার প্রতি আমার অবহেলা।”

গোত্র ভিত্তিক এই লড়াইয়ে মেতে ওঠে তারা। একে-অন্যকে আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ। একজন অন্যজনের বুকের ওপর উঠে তলোয়ার চালানো, ঘাড় থেকে মাথা আলাদা করতে পারার উল্লাস যেন নিত্যদিনকার ঘটনায় পরিণত হলো।

পিতা ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম কর্তৃক স্থাপিত বায়তুল্লাহ চলে যায় মুশরিকদের দখলে। একে একে সেখানে জায়গা করে নেয় পৌত্তলিকদের পূজিত মূর্তিগুলো। মানুষ যখন এক আল্লাহর ইবাদাত থেকে মুখ ফিরিয়ে বহু ইলাহকে গ্রহণ করে নেয়, তখন তাদের মধ্য থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায় সভ্যতা। মক্কার প্রান্তরে নারী-পুরুষ উলঙ্গ হয়ে সম্মিলিত হয়। সম্মান আর সম্ভ্রমের মাথা খেয়ে তারা এটাকে গ্রহণ করে প্রভু-সন্তুষ্টির উপায় হিসেবে।

ইতিহাসবিদগণ এই সময়কে উল্লেখ করেছেন ‘জাহিলিয়াত’ হিসেবে। সে এক ঘোর অন্ধকার সময়ের উপাখ্যান। পৃথিবী যখন এমন অন্ধকার সমুদ্রে তলিয়ে গেল, যখন হিদায়াতের রাস্তা থেকে মানুষের চূড়ান্ত পদস্খলন ঘটল, যখন আল্লাহর যমীনে শয়তান আপাতদৃষ্টে বিজয়ী হয়ে উঠল, তখন এমন একজনের আগমন অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠল যিনি এই আল্লাহর যমীনে আবার ফিরিয়ে আনবেন তাঁর আইন, মানুষকে চেনাবেন হিদায়াতের প্রকৃত রাস্তা। ধ্বংসের মুখে নিপতিত হতে যাওয়া আশরাফুল মাখলুকাতকে যিনি ফিরিয়ে আনবেন ধ্বংসের ফাঁদ থেকে। যিনি হবেন মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক। যার হাতে থাকবে সত্যের ঝান্ডা আর মুখে থাকবে ঐশী বাণী; যিনি হবেন অকুতোভয়। যার সামনে পৃথিবী অঢেল রূপ আর ঐশ্বর্য নিয়ে ধরা দিলেও তিনি সত্যের পথ থেকে বিন্দু পরিমাণও বিচ্যুত হবেন না…

সুবহে সাদিকের এক পরম মুহূর্ত। মানবজাতির জন্য রহমত হয়ে ধরায় আগমন ঘটলো সেই মহামানবের। সেই মহান ব্যক্তির, যিনি একাধারে স্বামী, পিতা, রাষ্ট্রনায়ক, যোদ্ধা, বন্ধু, ভাই ও রাসূল। যিনি ওহী প্রাপ্ত হবার আগেই সবার কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন। সবাই তাকে পূত-পবিত্র বলে জানত। তার চরিত্র, ন্যায়নিষ্ঠা ও আমানতের রক্ষণাবেক্ষণ আর সবার সাথে সমানভাবে সু-সম্পর্ক রক্ষা করে চলার জন্য তিনি ‘আল-আমীন’ তথা ‘বিশ্বাসী’ উপাধিতে ভূষিত হোন।

বই : ‘নবীজি ﷺ—যেমন ছিলেন তিনি’
মূল : শাইখ ড. আয়িয আল-কারনি
ভাষান্তর : মুরসালিন নিলয়

Out of Stock

Out of stock

Category:
 

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “নবীজি ﷺ—যেমন ছিলেন তিনি’”

Your email address will not be published. Required fields are marked *